চট্টগ্রামে ওয়াসার পানির সংকট দিন দিন বেড়েই চলেছে। অনেকেই দূরদূরান্ত থেকে পানি আনছেন। স্থানীয়দের অভিযোগ, এ বিষয়ে একাধিকবার অভিযোগ করেও কাজ হয়নি। তবে ওয়াসা বলছে, পর্যাপ্ত বৃষ্টির অভাবে পানিতে লবণাক্ততা বাড়ায় উৎপাদন কমাতে বাধ্য হয়েছে তারা।
এতদিন লবণাক্ততার কারণে ওয়াসার সরবরাহ করা পানি পান করা যাচ্ছিল না। সেই সমস্যা দূর হয়নি এখনো। এরই মধ্যে বেড়েছে পানির সংকট। ঘূর্ণিঝড় মোখার প্রভাবে বৃষ্টি শুরু হওয়ায় পানি সংকট থেকে মুক্তি মিলবে বলে মনে করেছিলেন নগরবাসী। কিন্তু পর্যাপ্ত বৃষ্টিপাত না হওয়ায় সেই আশাও পূরণ হয়নি শেষ পর্যন্ত।
নগরীর লালখান বাজার, বহদ্দারহাট, খাজা রোড, মোহাম্মদপুর, হালিশহর, কাট্টলীসহ বিভিন্ন এলাকায় পানির সংকট বেড়েছে। গোসল থেকে শুরু করে নিত্যদিনের কোনো কাজেই পানি পাচ্ছেন না এসব এলাকার বাসিন্দারা। এতে ভোগান্তি চরমে পৌঁছেছে।
স্থানীয় বাসিন্দা রুনা লায়লা বলেন, এক সপ্তাহ ধরে আমরা পানির খুব কষ্ট করছি। রান্না-খাওয়া আমাদের প্রায় বন্ধ। পানির অভাবে সময়মতো অফিসে যেতেও সমস্যা হচ্ছে।
নগরীর আরেক বাসিন্দা মোখলেসুর রহমান বলেন, সমস্যার কথা কর্তৃপক্ষকে জানানোর পরও কোনো সমাধান হচ্ছে না।
চট্টগ্রাম ওয়াসার ব্যবস্থাপনা পরিচালক এ কে এম ফজলুল্লাহ জানান, আগে ওয়াসার চারটি শোধনাগারে প্রতিদিন গড়ে ৪৬ কোটি লিটার পানি উৎপাদন হতো। তবে এখন লবণাক্ততার কারণে তা কমে দাঁড়িয়েছে ৪২ কোটি লিটারে। বৃষ্টির অভাবে পানিতে লবণাক্ততার মাত্রা বেড়ে যাওয়ায় দিনের নানা সময় পানি উৎপাদন বন্ধ রাখতে হচ্ছে। তাই চাইলেই সব জায়গায় সরবরাহ করা যাচ্ছে না।